সৈয়দ শামসুল হক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সৈয়দ শামসুল হক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১১ জুন, ২০১৪

পরানের গহীন ভিতর (৯)

পরানের গহীন ভিতর (৯)
সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক

একবার চাই এক চিক্কুর দিবার, দিমু তয়?
জিগাই কিসের সুখে দুঃখ নিয়া কর তুমি ঘর?
আঙিনার পাড়ে ফুল গাছ দিলে কি সোন্দর হয়,
দুঃখের কুসুম ঘিরা থাকে যার. জীয়ন্তে কবর
পাথারে বৃক্ষের তলে ঘন ছায়া জুড়ায় পরান,
গাঙের ভিতরে মাছ সারাদিন সাঁতরায় সুখে,
বাসরের পরে ছায়া য্যান দেহে গোক্ষুর জড়ান
উদাস সংসারে ব্যথা সারাদিন ঘাই দেয় বুকে।
তব্ওু সংসার নিয়া তারে নিয়া তুমি কি পাগল
তোলো লাল শাক মাঠে, ফসফস কোটো পুঁটিমাছ
সাধের ব্যঞ্জন করো, রান্ধো ক্ষীর পুড়ায়া আঞ্চল
বিকাল বেলায় করো কুঙ্কুমের ফোঁটা দিয়া সাজ
ইচ্ছা করে টান দিয়া নিয়া যাই তোমারে রান্ধুনি
তোমার সুতায় আমি একখান নীল শাড়ি বুনি।

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

আমার পরিচয়

আমার পরিচয়
সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির বেদি থেকে।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে
এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।

নূরল দিনের সারা জীবন

নূরল দিনের সারা জীবন
সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক

নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর
নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে ঊনসত্তর হাজার।
ধবলদুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।
নষ্ট খেত, নষ্ট মাঠ, নদী নষ্ট, বীজ নষ্ট, বড় নষ্ট যখন সংসার
তখন হঠাৎ কেন দেখা দেয় নিলক্ষার নীলে তীব্র শিস
দিয়ে এত বড় চাঁদ?

অতি অকস্মাৎ
স্তব্ধতার দেহ ছিঁড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ? কিসের প্রপাত?
গোল হয়ে আসুন সকলে,
ঘন হয়ে আসুন সকলে,
আমার মিনতি আজ স্থির হয়ে বসুন সকলে।
অতীত হঠাৎ হাতে হানা দেয় মরা আঙিনায়।

ক্লিক করলেই ইনকাম