দেশাত্ববোধক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দেশাত্ববোধক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩

প্রতিহত করো, হে আমার জনতা, রুখে দাও ওদের - দারিন তাতোর


কবিতার তেজষ্ক্রিয়তায় বর্গীরা অনুভব করে হিরোশিমা বা নাগাসাকির ধ্বংসের রূপ। তাইতো সততই তারা তটস্থ থাকে। এরকম কবিতাকে তারা পৃথিবীর সব থেকে শক্তিশালী বোমা ভাবে। এ রকমই একজন পারমাণবিক বোমা কবিতার কবি হলেন ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি কবি দারিন তাতোর। নিম্নোক্ত কবিতাটি লিখে ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য গত ৩ মে ২০১৮ তে তাঁর আটবছরের জেল হয়েছে। কবিতাটি হচ্ছে:  

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২০

পুব-পশ্চিম | অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত



পুব-পশ্চিম
__অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

তোমার শীতললক্ষ্যা আর আমার ময়ূরাক্ষী
তোমার ভৈরব আর আমার রূপনারায়ণ
তোমার কর্ণফুলি আর আমার শিলাবতী
তোমার পায়রা আর আমার পিয়ালী
এক জল এক ঢেউ এক ধারা
একই শীতল অতল অবগাহন, শুভদায়িনী শান্তি।
তোমার চোখের আকাশের রোদ আমার চোখের উঠোনে এসে পড়ে
তোমার ভাবনার বাতাস আমার ভাবনার বাগানে ফুল ফোটায়।
তোমার নারকেল সুপুরি অশোক শিমুল
আমার তাল খেজুর শাল মহুয়া
এক ছায়া এক মায়া একই মুকুল মঞ্জরী।
তোমার ভাটিয়াল আমার গম্ভীরা
তোমার সারি-জারি আমার বাউল
এক সুর এক টান একই অকূলের আকূতি
তোমার টাঙ্গাইল আমার ধনেখালি
তোমার জামদানি আমার বালুচর
এক সুতো এক ছন্দ একই লাণ্যের টানা-পোড়েন
চলেছে একই রূপনগরের হাতছানিতে।
আমরা এক বৃন্তে দুই ফুল, এক মাঠে দুই ফসল
আমাদের খাঁচার ভিতরে একই অচিন পাখির আনাগোনা।
আমার দেবতার থানে তুমি বটের ঝুরিতে সুতো বাঁধো
আমি তোমার পীরের দরগায় চেরাগ জ্বালি।
আমার স্তোত্রপাঠ তোমাকে ডাকে
তোমার আজান আমাকে খুঁজে বেড়ায়।
আমাদের এক সুখ এক কান্না এত পিপাসা
ভূগোল ইতিহাসে আমরা এক
এক মন এক মানুষ এক মাটি এক মমতা
পরস্পর আমরা পর নই
আমরা পড়শী —আর পড়শীই তো আরশি
তুমি সুলতানা আমি অপূর্ব
আমি মহবুব তুমি শ্যামলী।
আমাদের শত্রুও সেই এক
যারা আমাদের আস্ত মস্ত সোনার দেশকে খন্ড-খন্ড করেছে
যারা আমাদের রাখতে চায় বিচ্ছিন্ন করে বিরূপ করে বিমুখ করে।
কিন্তু নদীর দুর্বার জলকে কে বাঁধবে
কে রুখবে বাতাসের অবাধ স্রোত
কে মুছে দেবে আমাদের মুখের ভাষা আমাদের রক্তের কবিতা
আমাদের হৃদয়ের গভীর গুঞ্জন?
তুমি আমার ভাষা বলো আমি আনন্দকে দেখি
আমি তোমাদের ভাষা বলি তুমি আশ্চর্যে দেখ
এই ভাষায় আমাদের আনন্দে -আশ্চর্যে সাক্ষাত্কার।
কার সাধ্য অমৃতদীপিত সূর্য-চন্দ্রকে কেড়ে নেবে আকাশ থেকে?
আমাদের এক রবীন্দ্রনাথ এক নজরুল।
আমরা ভাষায় এক ভালোবাসায় এক মানবতায় এক
বিনা সুতোয় রাখীবন্ধনের কারিগর
আমরাই একে অন্যের হৃদয়ের অনুবাদ
মর্মের মধুকর, মঙ্গলের দূত
আমরাই চিরন্তন কুশলসাধক।

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

উটপাখি

উটপাখি
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

আমার কথা কি শুনতে পাও না তুমি?
কেন মুখ গুঁজে আছো তবে মিছে ছলে?
কোথায় লুকোবে? ধু-ধু করে মরুভূমি;
ক্ষ’য়ে-ক্ষ’য়ে ছায়া ম’রে গেছে পদতলে।
আজ দিগন্তে মরীচিকাও যে নেই;
নির্বাক, নীল, নির্মম মহাকাশ।
নিষাদের মন মায়ামৃগে ম’জে নেই;
তুমি বিনা তার সমূহ সর্বনাশ।
কোথায় পলাবে? ছুটবে বা আর কত?
উদাসীন বালি ঢাকবে না পদরেখা।
প্রাকপুরাণিক বাল্যবন্ধু যত
বিগত সবাই, তুমি অসহায় একা।।

ছাড়পত্র

ছাড়পত্র
সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত ভট্টাচার্য

যে শিশু ভুমিষ্ঠ হলো আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।

খর্বদেহ নিঃসহায় তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্ব্যোধ্য প্রতিজ্ঞায়।

সে ভাষা বুঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।

উদ্যোগ

উদ্যোগ
সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭)

বন্ধু, তোমার ছাড়ো-উদ্বেগ, সুতীক্ষè করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।
মূঢ় শত্রুকে হানো স্রোত রুখে, তন্দ্রাকে করো ছিন্ন,
একাগ্র দেশে শত্রুরা এসে হয়ে যাক নিশ্চিহ্ন।
ঘরে তোলো ধান, বিপ্লবী প্রাণ প্রস্তুত রাখো কাস্তে,
গাও সারিগান, হাতিয়ারে শান দাও আজ উদয়াস্তে।
আজ দৃঢ় দাঁতে পুঞ্জিত হাতে প্রতিরোধ করো শক্ত,
প্রতি ঘাসে ঘাসে বিদ্যুৎ আসে জাগে সাড়া অব্যক্ত।
আজকে মজুর হাতুড়ির সুর ক্রমশই করে দৃপ্ত,
আসে সংহতি; শত্রুর প্রতি ঘৃণা হয় নিক্ষিপ্ত।
ভীরু অন্যায় প্রাণ-বন্যায় জেনো আজ উচ্ছেদ্য,
বিপন্ন দেশে তাই নিঃশেষে ঢালো প্রাণ দুর্ভেদ্য!
সব প্রস্তুত যুদ্ধের দূত হানা দেয় পূব দরজায়,
ফেনী ও আসামে, চট্টগ্রামে ক্ষিপ্ত জনতা গর্জায়।
বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ম করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।

শহীদ স্মরণে

শহীদ স্মরণে
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (১৯৩৯-

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।

গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।

কবিতায় কি বলব?
যখন আসাদ
মনিরামপুরের প্রবল শ্যামল
হৃদয়ের তপ্ত রুধিরে করেছে রঞ্জিত
সারা বাংলায় আজ উড্ডীন
সেই রক্তাক্ত পতাকা।

তদন্ত

তদন্ত
মাহমুদ দারবিস

মাহমুদ দারবিস

হ্যাঁ, লেখো
আমি একজন আরব
আমার কার্ড নম্বর পঞ্চাশ হাজার
আমার আটটি সন্তান
নবমটি পরবর্তি গ্রীষ্মে জন্মাবে,
তুমি কি রাগ করলে?

লেখো
আমি এক আরব
সাথী শ্রমিকের সাথে আমি পাথর ভাঙি
অমানুষিক পরিশ্রমে আমি পাথুরে পাহাড় ভেঙ্গে
নুড়ি করি-
এক টুকরো রুটির জন্যে
আমার আট সন্তানের একখানি বইয়ের জন্যে
কিন্তু আমি দয়া-দক্ষিণা চাইনা
আর তোমার কর্তৃত্বের কাছে মাথা নোয়াইনা
তুমি কি রাগ করলে?

পথ

পথ
প্রেমেন্দ্র মিত্র

প্রেমেন্দ্র মিত্র

সেই সব হারানো পথ আমাকে টানে;-
কেরমানের নোনা মরুর ওপর দিয়ে,
    খোরাশান থেকে বাদক্শান,
পামিরের তুষার-পৃষ্ঠ ডিঙিয়ে, ইয়ারকন্দ থেকে খোটান।
শ্রান্ত উটের পায়ে পায়ে যেখানে উড়েছে মরুর বালি,
    চমরীর খুরে লেগেছে বরফ-গলা কাদা!

বাদক্শানের চুনি আর খোটানের নীলার নিষ্ঠুর ঝিলিক-দেওয়া,
    ভেঙ্গে-পড়া ক্যারাভানের কঙ্কালে আকীর্ণ,
লুব্ধ বণিক আর দুরন্ত দুঃসাহসীর পথ-
লাদকের কস্তুরির গন্ধ যেখানে আজো আছে লেগে পুরানো স্মৃতির মতো।

সোমবার, ৯ জুন, ২০১৪

ডিসেম্বর ১৯৮১ | নির্মলেন্দু গুণ

ডিসেম্বর ১৯৮১
নির্মলেন্দু গুণ

এই কবিতাটির ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
হোক না সে ছন্দ-নক্সা-পাড়হীন বিধবার পরিধেয়
সাদা থান শাড়ি। না থাক এর অন্ত্যমিলের চাতুর্য,
কিম্বা অনুপ্রাসের সাঙ্গীতিক দোলা। না থাক এর বুকে
কোনো স্পর্শকাতর বিস্ফোরক বা বিষাক্ত স্প্লিন্টার বা সেই
আশ্চর্য ম্যাজিক যা কবিতার কাছে কাম্য ছিলো একদিন।
এই কবিতার মধ্যে নাগরিক জীবনের যন্ত্রণার কথা নেই,
নেই পরকীয়া প্রেমের নিষিদ্ধ আনন্দ, দ্বন্দ্ব, খাঁচার ভিতরের
অচিন পাখির আধ্যাত্মিকতা। নেই মরমী বাউল বা কোনো
আত্মমগ্ন কবির মনোবৈকল্যের বিশ্লেষণ। এখানে রোমাঞ্চ নেই
রহস্যোপন্যাসের অলৌকিক ঈশ্বরের প্রশস্তিগাথা বা সদ্যমৃত
কোন প্রিয় বন্ধুর নির্জন কবরে সাজানোর যোগ্য এপিটাফ
এটি নয়। কোনো প্রতীকী ব্যঞ্জনা নেই এখানে শব্দের,
নেই বাক্যের অন্তরালে সূক্ষ্ম কোনো লুক্কায়িত বোধ।

ভারত এক খোঁজ - জয়দেব বসু


ভারত এক খোঁজ

জয়দেব বসু

বিশেষ কারণে এত বছর পর আমি অযোধ্যা এলাম,
মাননীয় বিচারক,
এলাম আমার মায়ের জন্মভূমি খুঁজতে।
না, আমার কী ধর্ম আমি জানিনা,
জানিনা আমার বাবা কে,
আমার মা-ও জানত না এসব।
আমার মা মুন্নাবাঈ জন্মেছিল এখানেই এক ঝোপড়ায়,
কোন্ পুরুষের ঔরসে তার জন্ম তা ঠাহর করে
বলতে পারেনি আমার দাদীও, সেক্ষেত্রে জাতপাতের কথা তো ওঠেই না,
মা শুধু জানত কে তার মা,
মাননীয় বিচারক,
একে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলা যায় কিনা ভেবে দেখবেন,
যদিও পরিবার শব্দটার অর্থই আমার কাছে পরিষ্কার না।
বরং শুনুন, বালক বয়সে বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ে বসার আগে
কী আমি দেখেছিলাম?

রণ-ভেরী

রণ-ভেরী
কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলাম

[গ্রীসের বিরুদ্ধে আঙ্গোরা-তুর্ক-গভর্ণমেন্ট যে যুদ্ধ চালাইতেছিলেন, সেই যুদ্ধে কামাল পাশার সাহায্যের জন্য ভারতবর্ষ হইতে দশ হাজার স্বেচ্ছা-সৈনিক প্রেরণের প্রস্তাব শুনিয়া লিখিত। ]

          ওরে       আয়!
ঐ       মহা-সিন্ধুর পার হতে ঘন রণ-ভেরী শোনা যায়-
                 ওরে       আয়!
ঐ       ইস্লাম ডুবে যায়!
                 যত শয়তান
                 সারা ময়দান
জুড়ি    খুন তার পিয়ে হুঙ্কার দিয়ে জয়-গান শোন্ গায়!
          আজ   শখ করে    জুতি-টক্করে
তোড়ে  শহীদের খুলি দুশ্মন পায় পায়-
                 ওরে আয়!
তোর    জান যায় যাক, পৌরুষ তোর মান যেন নাহি যায়!
ধর     ঝন্ঝার ঝুঁটি দাপটিয়া শুধু মুস্লিম-পঞ্জায়!
          তোর   মান যায় প্রাণ যায়-
তবে    বাজাও বিষাণ, ওড়াও নিশান! বৃথা ভীরু সম্ঝায়!

মানুষ


মানুষ

কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই নহে কিছু মহীয়ান
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

        ‘পূজারী, দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হল!’
স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ-
ডাকিল পান্থ ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি কো সাতদিন!’
সহসা বন্ধ হল মন্দির; ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমিররাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে!
        ভুখারী ফুকারি কয়,
‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে

কাজী নজরুল ইসলাম

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে-
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগ্বগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।

আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!
আসল হাসি, আসল কাঁদন,
মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,
মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত দুখের সুখ আসে
ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে-
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।

আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ,
সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস,
ফুললো সাগর দুললো আকাশ ছুটলো বাতাস,
গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিনাক-পাণির শূল আসে।
ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে
চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,
আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ বাগের ফুল হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!

বাংলাদেশ


বাংলাদেশ

কাজী নজরুল ইসলাম

নমঃ নমঃ নমঃ        বাঙলা দেশ মম
চির-মনোরম        চির-মধুর।
বুকে নিরবধি        বহে শত নদী
চরণে জলধির        বাজে নূপুর॥

শিয়রে গিরি-রাজ        হিমালয় প্রহরী
আশিস্-মেঘবারি        সদা তার পড়ে ঝরি,
যেন উমার চেয়ে        এ আদরিনী মেয়ে.
ওড়ে আকাশ ছেয়ে        মেঘ চিকুর ॥

গ্রীষ্মে নাচে বামা        কাল-বোশেখী ঝড়ে,
সহসা বরষাতে        কাঁদিয়া ভেঙে পড়ে,
শরতে হেসে চলে        শেফালিকা-তলে
গাহিয়া আগমনী        গীতি বিধুর॥

হরিত অঞ্চল               হেমন্তে দুলায়ে
ফেরে সে মাঠে মাঠে        শিশির-ভেজা পায়ে,
শীতের অলস বেলা        পাতা ঝরার খেলা
ফাগুনে পরে               সাজ ফুল-বধূর॥

এই দেশের মাটি        জল ও ফুলে ফলে
যে রস যে সুধা        নাহি ভূমন্ডলে,
এই মায়ের বুকে        হেসে খেলে সুখে
ঘুমাব এই বুকে        স্বপ্নাতুর॥

আমি কোন আগন্তুক নই - আহসান হাবীব


আমি কোন আগন্তুক নই

আহসান হাবীব

আসমানের তারা সাক্ষী
           সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই
নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী
সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থিরদৃষ্টি
মাছরাঙা আমাকে চেনে
            আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি কোনো ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই।
আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি
ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে
এখানেই থাকি আর
          এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা-
                        সারা দেশে। 

ক্লিক করলেই ইনকাম