আহসান হাবীব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আহসান হাবীব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০১৭

রে কিশোর

আহসান হাবীব


 কে বলে জন্মান্ধ তুই
 তোরও দুই চোখে
ছিলো আলো
স্বর্গের অমল জ্যোতি ছিলো।

 চোখ মেলে তুইও অনায়াসে
আজীবন নীলাকাশ
বনভূমি
রূপালি নদীর স্রোত
মনোরম অন্ধকার রাতের জোনাকি
 দেখে যেতে যেতে
জন্মের সমস্ত ঋণ শুধে যাবি
এই কথা ছিল।

অস্থানে ভূমিষ্ঠ তুই
পৃথিবীর আলো
 তোকে স্পর্শ করার আগেই
 তোর চোখে বানানো আন্ধার
তীক্ষ্ম বল্লমের মত ছুঁড়ে দিয়েছিল যে দুর্জন
আমি তাকে চিনি।

না তুই জন্মান্ধ ন’স
বানোয়াট অন্ধতার বেড়া
এই ভ্রান্তি
                      ভুলে যা ভুলে যা
বুকের আগুনে ক্লান্ত করতল
 নে জ্বালিয়ে নে রে
জ্বলন্ত আঙুলে
 বিদ্ধ কর দুই চোখ
দৃষ্টি ফিরে পাবি, তুই
মাথা তুলে দাঁড়া
দে তোর অমল দৃষ্টি মেলে দে ভুবনে।

 দেখে নে শ্যামল বিভা বনানীর
বনরাজীনীলা
এই পৃথ্বী
নদী
নারী
শস্য মাঠ চিনে নে, এবং
তারো আগে শত্রু শিবির।

রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬

ক্রান্তিকাল


আহসান হাবীব

মধ্যরাতে রাজপথে দেখি এক নারীর শরীর-
যে নারী নায়িকা ছিলো কোনোকালে এই পৃথিবীর।

র্সবাঙ্গ পুড়েছে তার বণিকের তৃষ্ণার উত্তাপ,
হৃদয়ের রক্ত নিয়ে রেখে গেছে নখরের ছাপ ;
দেখে মনে হয়
বহুভোগ্যা এই নারী,
এ হৃদয় সে হৃদয় নয়।
একদিন এই নারী ইতিহাস-বিন্যাসের ভার
নিয়েছিল নিজ দেহে,
পৃথিবীর সঙ্গীত-সভার
যে নারী সম্রাজ্ঞী ছিলো,
অন্ধকার রাত্রির প্রহরে
 আজ দেখি সেই নারী রাজপথে আর্তনাদ করে।

কোথাও লাবণ্য নেই জেগে আছে ভয় ও বিস্ময়,
অভীপ্সার আলো থেকে বিচ্ছুরিত সে নারী এ নয়।

তনুর তনিমা ঘিরে আজ নেই হৃদয়ের ডাক
কুৎসিত কঙ্কাল ঘিরে ইতিহাস-নগরী নির্বাক।
আসমুদ্র আকাশের একাগ্র প্রেমের পরিণতি
এক সুরে উৎসারিত পৃথিবীর প্রথম প্রণতি
ব্যর্থ আজ।
লালসার পাশব লুন্ঠন
ঘটে গেছে। অতঃপর এই নারী খুলেছে গুন্ঠন
জনহীন রাজপথে অন্ধকারে ক্লান্ত দুই হাতে
আর তার সাথে
সভ্যতা-নারীর হাটে দেখি শত আকুঞ্চিত ভাল
ভয়ে ভীত শত শত সভ্যতার চতুর দালাল।

সে নেই


আহসান হাবীব


এখনো ভোরের রোদে সোনা ঝরে-
কুড়িয়ে নেবার
কিশোর ছেলেটি নেই।

শীতের সকালে
নিঃশেষ শিউলির ডাল,
বোশেখে বকুল
নাম ধরে ডাক দেয় ;
সাড়া নেই।
যার
নিজের খুশীতে রাত ভোর হতো
কাকভোরে তার
এখন ভাঙে না ঘুম।
সকালের সোনা
অকারণে ছুঁয়ে ছেনে সাগরজোয়ার
জাগাবার কেউ নেই,
কেউ নেই তাকিয়ে দেখার
চোখ মেলে।

সোমবার, ৯ জুন, ২০১৪

সারাদিন আমি - আহসান হাবীব


সারাদিন আমি

আহসান হাবীব

বুকের মধ্যে সারা সকাল কি যে অকাল বৃষ্টি ঝরে
                রোজ সকালে।
রোজ সকালে রোদপোয়ানো ভঙ্গি থাকে শিরীষ ডালে।
এই আলো এই বৃষ্টিপতন মাঝখানে তার এই জানালা
ত্রস্ত হাতে বাতাস থেকে ধুলো ঝাড়ার ব্যস্ত পালা।
সারাটা দিন ধুলো ঝাড়ার এই পালা নয় সাঙ্গ হবার,
ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে যাবো বুকের মধ্যে রক্তজবার।

মননে নৈকট্যে এলে উড়তে থাকে ফুলের মাছি।
এই ফুলে এই মাছির গায়ে মাছির মতই লেপ্টে আছি।
ফুলের আতর ধুলোয় মেশে রোদ জ্বলে আর বৃষ্টি ঝরে
বাইরে আলো ফুলের রেণু আমার বৃষ্টি আমার ঘরে।

কেউ বলে তুই দু’চোখ মেলে পদ্মপত্রে দেখলিনে জল,
এই যে এত বৃষ্টিপতন রক্তক্ষরণ তবু অটল
রইলি বসে, দেখলিনে এই ধুলোর মধ্যে বাসা রোগের,
জানলিনে এই সারাটা দিন ধুলোর সঙ্গ কি দুর্ভোগের।
কেউ বলে অরণ্যচারী পশুর চোখেই শুদ্ধ আলো
আমার কিন্তু ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে যাওয়াই লাগছে ভালো।

থাকো মধ্যম সারিতে - আহসান হাবীব


থাকো মধ্যম সারিতে

আহসান হাবীব

এ্যরেনা তোলপাড়
দেখো তুমুল লড়াই চলছে
চতুর্দিকে তীক্ষè শিং-এ বিদ্যুৎঝলক।
মধ্যমঞ্চে হতবাক তুমি এক অস্থির পুরুষ। তুমি
দিগি¦দিক জ্ঞানশূন্য
কেবলি পালাতে চাও
        কোথায় পালাবে?

থাকো মধ্যম সারিতে তুমি
সামনে চোখ
পেছনে প্রবল থাবা টেনে নেয় প্রচণ্ড আক্রোশে
বারম্বার সামনে নামে ধস্।
দিনরাত্রি টানাপোড়েনের খেলনা
আছো তুমি স্বনির্মিত খাঁচার কবলে।

সার্চ - আহসান হাবীব


সার্চ

আহসান হাবীব

‘হল্ট’ বলে হুঙ্কার ছেড়েই যম সামনে খাড়া।
লোমশ কর্কশ হাত ঢুকে গেলো প্যান্টের পকেটে
কিছু পয়সা দুটি ফুল সুতোর বান্ডিল    অতঃপর
ভারী হাতে কোমর জরীপ। কিছু নেই।
কুছ নেহি? বোমাওমা? সাচ্ সাচ্ বাতাও, নেহিত...
                দেখুন দেখুন
নিজেই নিজের হাতে শার্টের প্যান্টের সব পকেট ওল্টায়
            বলে দেখুন দেখুন।

ছেলেটির পাতলা ঠোঁটে হাসির প্রলেপ না কি?
চাপা কিছু কৌতুক? আহারে সরল কিশোর,
তার হয়তো-বা চেনা নেই
        মৃত্যুর চেহারা!

‘যাও’ বলে আবার গর্জন আর ছেলেটি অটল
ধীর পায়ে চলে গেলো আপন গন্তব্যে
তার গন্তব্য কোথায়?
তার গন্তব্য কোথায়? তার ভয় নেই?

ক্ষমাই প্রার্থনা - আহসান হাবীব


ক্ষমাই প্রার্থনা

আহসান হাবীব

আজন্ম সঞ্চিত ঋৃদ্ধ শব্দাবলী কথামালা
    কবিতার সে সমৃদ্ধ কারুকাজ, আজ
    আমাকে এমন করে করবে প্রতারণা
            স্বপ্নে ভাবিনি।
কোনোদিন ভাবতেই পারিনি
শৈশব কৈশোর আর যৌবনে লালিত
    উপমা প্রতীক ছবি
        সব একে একে ভুলে যাবো
এবং এমন এক বোবা অন্ধকারে
        ডুবে যাবো কোনোদিন
        কখনো ভাবিনি।

কখনো ভাবিনি আমি
একদা এমন এক অক্ষমতা
অস্থির ব্যাকুল করে তুলবে প্রাণ
        কথার নদীর মরা বুকে
শুধু বুক জ্বলবে, আর
নতমুখে অপরাধী
        আমাকে দাঁড়াতে হবে
        মঞ্চভস্ম বুক নিয়ে, শব্দের কাঙাল।

দোতলায় ল্যান্ডিং মুখোমুখি ফ্ল্যাট একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়


দোতলায় ল্যান্ডিং

    মুখোমুখি ফ্ল্যাট

        একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়

আহসান হাবীব

ঃ আপনারা যাচ্ছেন বুঝি?
ঃ চলে যাচ্ছি, মালপত্র উঠে গেছে সব।
ঃ বছর দুয়েক হলো, তাই নয়?
ঃ তারো বেশি। আপনার ডাকনাম শানু, ভালো নাম?
ঃ শাহানা, আপনার?
ঃ মাবু।
ঃ জানি।
ঃ মাহবুব হোসেন। আপনি খুব ভালো সেলাই জানেন।
ঃ কে বলেছে। আপনার অনার্স ফাইন্যাল, তাই নয়?
ঃ এবার ফাইন্যাল।
ঃ ফিজিক্স-এ অনার্স।
ঃ কী আশ্চর্য। আপনি কেন ছাড়লেন হঠাৎ?
ঃ মা চান না। মানে ছেলেদের সঙ্গে বসে...
ঃ সে যাক গে, পা সেরেছে?
ঃ কি করে জানলেন?
ঃ এই আর কি। সেরে গেছে?
ঃ ও কিছু না, প্যাসেজটা পিছলে ছিলো মানে...
ঃ সত্যি নয়। উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে...
ঃ ধ্যাৎ। খাবার টেবিলে রোজ মাকে অত জ্বালানো কি ভালো।
ঃ মা বলেছে?
ঃ শুনতে পাই। বছর দুয়েক হোল, তাই নয়?
ঃ তারো বেশি। আপনার টবের গাছে ফুল এসেছে?
ঃ নেবেন? না থাক। রিকসা এলো, মা এলেন, যাই।
ঃ যাই। আপনি সন্ধে বেলা ওভাবে কখনো পড়বেন না, চোখ যাবে, যাই।
ঃ হলুদ শার্টের মাঝখানে বোতাম নেই, লাগিয়ে নেবেন, যাই।
ঃ যান, আপনার মা আসছেন। মা ডাকছেন, যাই।

আমি কোন আগন্তুক নই - আহসান হাবীব


আমি কোন আগন্তুক নই

আহসান হাবীব

আসমানের তারা সাক্ষী
           সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই
নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী
সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থিরদৃষ্টি
মাছরাঙা আমাকে চেনে
            আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি কোনো ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই।
আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি
ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে
এখানেই থাকি আর
          এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা-
                        সারা দেশে। 

ক্লিক করলেই ইনকাম