কাজী নজরুল ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কাজী নজরুল ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩০ জুন, ২০১৯

অবতরণিকা | মরু ভাস্কর | কাজী নজরুল ইসলাম


অবতরণিকা
কাব্যগ্রন্থ: মরু-ভাস্কর
__কাজী নজরুল ইসলাম

জেগে ওঠ তুই রে ভোরের পাখি নিশি-প্রভাতের কবি!
লোহিত সাগরে সিনান করিয়া উদিল আরব-রবি।
ওরে ওঠ তুই, নূতন করিয়া বেঁধে তোল তোর বীণ!
ঘন আঁধারের মিনারে ফুকারে আজান মুয়াজ্জিন।
কাঁপিয়া উঠিল সে ডাকের ঘোরে গ্রহ, রবি, শশী, ব্যোম,
ঐ শোন শোন ‘সালাতের’ ধ্বনি ‘খায়রুমমিনান্নৌম!’
রবি-শশী-গ্রহ-তারা ঝলমল গগনাঙ্গনতলে
সাগর ঊর্মি-মঞ্জীর পায়ে ধরা নেচে নেচে চলে।
তটিনী-মেখলা নটিনি ধরার নাচের ঘূর্ণি লাগে
গগনে গগনে পাবকে পবনে শস্যে কুসুম-বাগে।
সে আজান শুনি থমকি দাঁড়ায় বিশ্ব-নাচের সভা,
নিখিল-মর্ম ছাপিয়া উঠিল অরুণ জ্যোতির জবা।
দিগ্‌‌দিগন্ত ভরিয়া উঠিল জাগর পাখির গানে,
ভূলোক দ্যুলোক প্লাবিয়া গেল রে আকুল আলোর বানে!
আরব ছাপিয়া উঠিল আবার ব্যোমপথে ‘দীন’ ‘দীন’,
কাবার মিনারে আবার আসিল নবীন মুয়াজ্জিন!
ওরে ওঠ তোরা, পশ্চিমে ঐ লোহিত সাগর জল
রঙে রঙে হল লোহিততর রে লালে-লাল ঝলমল।
রঙ্গে ভঙ্গে কোটি তরঙ্গে ইরানি দরিয়া ছুটে,
পূর্ব-সীমায়,–সালাম জানায় আরব-চরণে লুটে।
দখিনে ভারত-সাগরে বাজিছে শঙ্খ, আরতি ধ্বনি,
উদিল আরবে নূতন সূর্য–মানব-মুকুট-মণি।
উত্তরে চির-উদাসিনী মরু, বালুকা-উত্তরীয়
উড়ায়ে নাচিয়া নাচিয়া গাহিছে–‘জাগো রে, অমৃত পিয়ো!’
লু হাওয়া বাজায় সারেঙ্গি বীণ খেজুর পাতার তারে,
বালুর আবির ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারে স্বর্গে গগন-পারে।
খুশিতে বেদানা-ডালিম ডাঁসায়ে ফাটিয়া পড়িছে ভুঁয়ে,
ঝরে রসধারা নারঙ্গি শেউ আপেল আঙুর চুঁয়ে।
আরবি ঘোড়ারা রাশ নাহি মানে আশমানে যাবে উঠি,
মরুর তরণি উটেরা আজিকে সোজা পিঠে চলে ছুটি।
বয়ে যায় ঢল ধরে নাকো জল আজি ‘জমজম’ কূপে,
‘সাহারা’ আজিকে উথলিয়া ওঠে অতীত সাগর রূপে
পুরাতন রবি উঠিল না আর সেদিন লজ্জা পেয়ে,
নবীন রবির আলোকে সেদিন বিশ্ব উঠিল ছেয়ে।
চক্ষে সুরমা বক্ষে ‘খোর্মা’ বেদুইন কিশোরীরা
বিনি কিম্মতে বিলাল সেদিন অধর চিনির শিরা!
‘ঈদ’ উৎসব আসিল রে যেন দুর্ভিক্ষের দিনে,
যত ‘দুশমনি’ ছিল যথা নিল ‘দোসতি’ আসিয়া জিনে।
নহে আরবের, নহে এশিয়ার,–বিশ্বে সে একদিন,
ধূলির ধরার জ্যোতিতে হল গো বেহেশ্‌ত জ্যোতিহীন!
ধরার পঙ্কে ফুটিল গো আজ কোটিদল কোকনদ,
গুঞ্জরি ওঠে বিশ্ব-মধুপ–‘আসিল মোহাম্মদ!’

***
অভিনব নাম শুনিল রে ধরা সেদিন –‘মোহাম্মদ!’
এতদিন পরে এল ধরার ‘প্রশংসিত ও প্রেমাস্পদ!’
চাহিয়া রহিল সবিস্ময় ইহুদী আর ঈসাই সব,
আসিল কি ফিরে এতদিনে সেই মসিহ্‌ মহামানব?
‘তওরাত’ ‘ইঞ্জিল’ ভরি শুনিল যাঁর আগমনি,
‘ঈসা’ ‘মুসা’ আর ‘দাউদ’ যাঁর শুনেছিল পা-র ধ্বনি,
সেই সুন্দর দুলাল আজ আসিল কি নীরব পায়?
যেমন নীরবে আসে তপন পূর্ণ চাঁদ পুব-সীমায়।
এমনই করিয়া ওঠে রবি ওঠে রে চাঁদ, ধরা তখন
এমনই করিয়া ঘুমায়ে রয়, রবি শশী হেরে স্বপন।
আলোকে আলোকে ছায় দিশি নব অরুণ ভাঙে রে ঘুম,
তন্দ্রালু সব আঁখি-পাতায় বন্ধুপ্রায় বুলায় চুম।
তেমনই মহিমা সেই বিভায় আসিল আজ আলোর দূত,
ঝরনার সুরে পাখিরা গায়, আতর গায় বয় মারুত।
শুষ্ক সাহারা এত সে যুগ হেরেছে রে যার স্বপন,
বেহেশ্‌ত হতে নামিল ঐ সেই সুধার প্রস্রবণ।
খোর্মা খেজুরে মরু-কানন ফলবতী হলুদ-রং
মরুর শিয়রে বাজে রে ঐ জলধারার মেঘ-মৃদং!
শোনেনি বিশ্ব কভু যে নাম - ‘মোহাম্মদ’ শুনে সে আজ
সেই সে নাম অবিশ্রাম একী মধুর, একী আওয়াজ!
আঁধার বিশ্বে যবে প্রথম হইল রে সূর্যোদয়
চেয়েছিল বুঝি সকল লোক এই সে রূপ সবিস্ময়!
এমনই করিয়া নবারুণের করিল কি নামকরণ,
সে আলোক-শিশু এমনই রে হরি আঁধার হরিল মন!
এমনই সুখে রে সেই সেদিন বিহগ সব গাহিল গান,
শাখায় প্রথম ফুটিল ফুল, হল নিখিল শ্যামায়মান।
গুলে গুলে শাড়ি গুলবাহার পরি সেদিন ধরণি মা
আঁধার সূতিকাবাস ত্যজি হেরে প্রথম দিক্‌সীমা।
ফুলবন লুটি, খোশখবর দিয়ে বেড়ায় চপল বায়,
‘ওরে নদ নদী ওরে নিঝর ছাড়ি পাহাড় ছুটিয়া আয়।
সাগর! শঙ্খ বাজা রে তোর, আসিল ঐ জ্যোতিষ্মান,
একী আনন্দ একী রে সুখ এল আলোর একী এ বান!’
ফুলের গন্ধ, পাখির গান স্পর্শসুখ ভোর হাওয়ার,
জানিল বিশ্ব সেই সেদিন, সেই প্রথম ; আজ আবার
আঁধার নিখিলে এল আবার আদি প্রাতের সে সম্পদ
নূতন সূর্য উদিল ঐ – মোহাম্মদ! মোহাম্মদ!
-----------------
==========

‘মরু-ভাস্কর’ ১৩৫৭ সালে গ্রন্থবন্ধ হয়। প্রকাশক: শাহজাহান, প্রভিন্সিয়াল বুক ডিপো, ভিক্টোরিয়া পার্ক (সাউথ), ঢাকা। প্রচ্ছদপট: শ্রীসুমুখনাথ মিত্র। মুদ্রাকর: শ্রীগৌরচন্দ্র পাল; নিউ মহামায়া প্রেস; ৬৫/৭ কলেজ ষ্ট্রিট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯। মূল্য সাড়ে তিন টাকা।


প্রকাশক তাঁহার ‘আরজ’-এ বলেন যে, তিনি ‘গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি’ পাইয়াছিলেন সুগায়ক আব্বাসউদ্দীন আহমদের ‘সৌজন্যে’। এই অসম্পূর্ণ কাব্যখানিতে ১৮টি খণ্ড-কবিতা স্থানলাভ করে।

প্রথম কবিতা ‘অবতরণিকা’ ১৩৩৭ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের ‘সওগাত’ পত্রিকায় ‘মরু-ভাস্কর’ শিরোনামে বাহির হইয়াছিল। শিরোনামের পাশে তারকা-চিহ্ন দিয়া পাদটীকায় সম্পাদক বলেন: কবি হজরত মোহাম্মদের (দ.) জীবনী কাব্যে লিখেতেছেন, এই কবিতাটি তাহার পূর্বাংশ। স. স.।


শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০১৫

বিদ্রোহী (কবিতা)

কাজী নজরুল ইসলাম   

[মে ২৪, ১৮৯৯ – আগস্ট ২৯, ১৯৭৬]


                                বল বীর –
                 বল উন্নত মম শির,
শির     নেহারি' আমারি নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির!
                          বল বীর –
   বল      মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
              চন্দ্র সূর্য্ গ্রহ তারা ছাড়ি'
         ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া
         খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
             উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর!
মম   ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
                        বল বীর –
             আমি    চির-উন্নত শির।


          আমি    চিরদুর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা
–   প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
          আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
              আমি দুর্বার,
          আমি    ভেঙে করি সব চুরমার!
          আমি    অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
  আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
          আমি   মানিনাকো কোন আইন,
আমি  ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
          আমি  ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
          আমি  বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাত্রীর!
                          বল বীর –
                  চির-  উন্নত মম শির!


সোমবার, ৯ জুন, ২০১৪

রণ-ভেরী

রণ-ভেরী
কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলাম

[গ্রীসের বিরুদ্ধে আঙ্গোরা-তুর্ক-গভর্ণমেন্ট যে যুদ্ধ চালাইতেছিলেন, সেই যুদ্ধে কামাল পাশার সাহায্যের জন্য ভারতবর্ষ হইতে দশ হাজার স্বেচ্ছা-সৈনিক প্রেরণের প্রস্তাব শুনিয়া লিখিত। ]

          ওরে       আয়!
ঐ       মহা-সিন্ধুর পার হতে ঘন রণ-ভেরী শোনা যায়-
                 ওরে       আয়!
ঐ       ইস্লাম ডুবে যায়!
                 যত শয়তান
                 সারা ময়দান
জুড়ি    খুন তার পিয়ে হুঙ্কার দিয়ে জয়-গান শোন্ গায়!
          আজ   শখ করে    জুতি-টক্করে
তোড়ে  শহীদের খুলি দুশ্মন পায় পায়-
                 ওরে আয়!
তোর    জান যায় যাক, পৌরুষ তোর মান যেন নাহি যায়!
ধর     ঝন্ঝার ঝুঁটি দাপটিয়া শুধু মুস্লিম-পঞ্জায়!
          তোর   মান যায় প্রাণ যায়-
তবে    বাজাও বিষাণ, ওড়াও নিশান! বৃথা ভীরু সম্ঝায়!

কবির মুক্তি

কবির মুক্তি

কাজী নজরুল ইসলাম

মিলের খিল খুলে গেছে!
কিলবিল করছিল, কাঁচুমাচু হয়েছিল-কেঁচোর মতন-পেটের পাঁকে কথার কাতুকুতু!
কথা কি ‘কত্থক’ এ নাচ নাচবে চৌতালে ধামারে ?
তালতলা দিয়ে যেতে হলে
কথাকে যেতে হয় কুঁতিয়ে কুঁতিয়ে
          তালের বাধাকে গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে
          এই যা:! মিল হয়ে গেল!
          ও তালতলার কেরদানি!-দুত্তোর!
মুরগিছানায় চিলের মতন
টেকো মাথায় ঢিলের মতন
          পড়বে এবার কথার বাণ্ডিল।
ছন্দ এবার কন্ধ-কাটা পাঁঠার মতন ছটফটাবে।
লটপটাবে লুচির লেচির আটার মতন!
অক্ষর আর যক্ষর টাকা গোণার মতো গুনতে হবে না।-
অঙ্ক-লক্ষ্মীর ভয়ে কাব্য-লক্ষ্মী থাকতেন
           কুঁকড়োর মতন কুঁকড়ে।

মানুষ


মানুষ

কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই নহে কিছু মহীয়ান
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

        ‘পূজারী, দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হল!’
স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ-
ডাকিল পান্থ ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি কো সাতদিন!’
সহসা বন্ধ হল মন্দির; ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমিররাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে!
        ভুখারী ফুকারি কয়,
‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে

কাজী নজরুল ইসলাম

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে-
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগ্বগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।

আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!
আসল হাসি, আসল কাঁদন,
মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,
মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত দুখের সুখ আসে
ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে-
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।

আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ,
সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস,
ফুললো সাগর দুললো আকাশ ছুটলো বাতাস,
গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিনাক-পাণির শূল আসে।
ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে
চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,
আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ বাগের ফুল হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!

প্রবর্তকের ঘুর্-চাকায়

প্রবর্তকের ঘুর্-চাকায়
কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলাম

যায় মহাকাল মূর্ছা যায়
প্রবর্তকের ঘুর্-চাকায়।
      যায় অতীত
    কৃষ্ণ-কায়
      যায় অতীত
    রক্ত-পায়
যায় মহাকাল মূর্ছা যায়
প্রবর্তকের ঘুর্-চাকায়!

      যায় প্রবীণ
    চৈতী-বায়,
      আয় নবীন
      শক্তি আয়।
      যায় অতীত
      যায় পতীত্,
      ‘আয় অতিথ,
    ‘আয় রে আয়’
বৈশাখী-ঝড় সুর হাঁকায়
প্রবর্তকের ঘুর্-চাকায়
প্রবর্তকের ঘুর্-চাকায়

বাংলাদেশ


বাংলাদেশ

কাজী নজরুল ইসলাম

নমঃ নমঃ নমঃ        বাঙলা দেশ মম
চির-মনোরম        চির-মধুর।
বুকে নিরবধি        বহে শত নদী
চরণে জলধির        বাজে নূপুর॥

শিয়রে গিরি-রাজ        হিমালয় প্রহরী
আশিস্-মেঘবারি        সদা তার পড়ে ঝরি,
যেন উমার চেয়ে        এ আদরিনী মেয়ে.
ওড়ে আকাশ ছেয়ে        মেঘ চিকুর ॥

গ্রীষ্মে নাচে বামা        কাল-বোশেখী ঝড়ে,
সহসা বরষাতে        কাঁদিয়া ভেঙে পড়ে,
শরতে হেসে চলে        শেফালিকা-তলে
গাহিয়া আগমনী        গীতি বিধুর॥

হরিত অঞ্চল               হেমন্তে দুলায়ে
ফেরে সে মাঠে মাঠে        শিশির-ভেজা পায়ে,
শীতের অলস বেলা        পাতা ঝরার খেলা
ফাগুনে পরে               সাজ ফুল-বধূর॥

এই দেশের মাটি        জল ও ফুলে ফলে
যে রস যে সুধা        নাহি ভূমন্ডলে,
এই মায়ের বুকে        হেসে খেলে সুখে
ঘুমাব এই বুকে        স্বপ্নাতুর॥

বাতায়ন-পাশে গুবাক তরুর সারি



বাতায়ন-পাশে গুবাক তরুর সারি
কাজী নজরুল ইসলাম

বিদায়, হে মোর বাতায়ন-পাশে নিশীথ জাগার সাথী!
ওগো বন্ধুরা, পান্ডুর হয়ে এল বিদায়ের রাতি!
আজ হ'তে হ’ল বন্ধ আমার জানালার ঝিলিমিলি,
আজ হ'তে হ’ল বন্ধ মোদের আলাপন নিরিবিলি।

অস্ত-আকাশ-অলিন্দে তার শীর্ণ কপোল রাখি’
কাঁদিতেছে চাঁদ, “মুসাফির জাগো, নিশি আর নাই বাকী!”
নিশীথিনী যায় দূর বন-ছায় তন্দ্রায় ঢুলুঢুল্,
ফিরে ফিরে চায়, দু’হাতে জড়ায় আঁধারের এলোচুল।

চমকিয়া জাগি, ললাটে আমার কাহার নিশাস লাগে?
কে করে ব্যজন তপ্ত ললাটে, কে মোর শিয়রে জাগে?
জেগে দেখি, মোর বাতায়ন-পাশে জাগিছে স্বপনচারী
নিশীথ রাতের বন্ধু আমার গুবাক তরুর সারি!

তোমাদের আর আমার আঁখির পল্লব-কম্পনে
সারারাত মোরা কয়েছি যে কথা, বন্ধু, পড়িছে মনে!
জাগিয়া একাকী জ্বালা করে আঁখি আসিত যখন জল,
তোমাদের পাতা মনে হ’ত যেন সুশীতল করতল

ক্লিক করলেই ইনকাম