শ্রম/আন্দোলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শ্রম/আন্দোলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৩

স্বাধীন প্যালেস্টাইন তোমার জন্য এই কবিতা

 

স্বাধীন প্যালেস্টাইন তোমার জন্য এই কবিতা 

--মহাদেব সাহা

ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস আমার এই কবিতা,
গোলাপ ও স্বর্ণচাঁপার প্রতি যার বিশেষ দুর্বলতা ছিলো
যার তন্ময়তা ছিলো পাখি, ফুল ও প্রজাপতির দিকে
সে এখন প্যালেস্টাইনী গেরিলাদের কানে স্বাধীনতার
গান গাইছে;
ইসরাইলী হামলায় ক্ষতবিক্ষত লেবাননের পল্লীতে সে
এখন ব্যস্ত উদ্ধারকর্মী,
হাতে শুশ্রূষার ব্যাগ নিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাহুতে
ব্যাণ্ডেজ বেঁধে দিচ্ছে আমার এই কবিতা;

শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

মিছিল | রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ


মিছিল
__রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

যে যাবে না সে থাকুক, চলো, আমরা এগিয়ে যাই।
যে-সত্য জেনেছি পুড়ে, রক্ত দিয়ে যে-মন্ত্র শিখেছি,
আজ সেই মন্ত্রের সপক্ষে নেবো দীপ্র হাতিয়ার।
শ্লোগানে কাঁপুক বিশ্ব, চলো আমরা এগিয়ে যাই।

প্রথমে পোড়াই চলো অন্তর্গত ভীরুতার পাপ,
বাড়তি মেদের মতো বিশ্বাসের দ্বিধা ও জড়তা।
সহস্র বর্ষের গ্লানি, পরাধীন স্নায়ুতন্ত্রীগুলো,
যুক্তির আঘাতে চলো মুক্ত করি চেতনার জট।

বুধবার, ১১ মে, ২০১৬

দুই বিঘা জমি


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই   আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, "বুঝেছ উপেন,   এ জমি লইব কিনে।'
কহিলাম আমি, "তুমি ভূস্বামী,   ভূমির অন্ত নাই।
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর   মরিবার মতো ঠাঁই।'
শুনি রাজা কহে, "বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখান
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে   সমান হইবে টানা--
ওটা দিতে হবে।' কহিলাম তবে   বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজল চক্ষে, "করুণ বক্ষে   গরিবের ভিটেখানি।
সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ   সে মাটি সোনার বাড়া,
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে   এমনি লক্ষ্মীছাড়া!'
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল   রহিল মৌনভাবে,
কহিলেন শেষে ক্রূর হাসি হেসে,  "আচ্ছা, সে দেখা যাবে।'

বুধবার, ১১ জুন, ২০১৪

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়
হেলাল হাফিজ

হেলাল হাফিজ

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

মিছিলের সব হাত
        কন্ঠ
        পা এক নয়।
যেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার।

শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে
অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে
অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহবানে,
কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে।

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

নূরল দিনের সারা জীবন

নূরল দিনের সারা জীবন
সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক

নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর
নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে ঊনসত্তর হাজার।
ধবলদুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।
নষ্ট খেত, নষ্ট মাঠ, নদী নষ্ট, বীজ নষ্ট, বড় নষ্ট যখন সংসার
তখন হঠাৎ কেন দেখা দেয় নিলক্ষার নীলে তীব্র শিস
দিয়ে এত বড় চাঁদ?

অতি অকস্মাৎ
স্তব্ধতার দেহ ছিঁড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ? কিসের প্রপাত?
গোল হয়ে আসুন সকলে,
ঘন হয়ে আসুন সকলে,
আমার মিনতি আজ স্থির হয়ে বসুন সকলে।
অতীত হঠাৎ হাতে হানা দেয় মরা আঙিনায়।

মে দিনের কবিতা

মে দিনের কবিতা
সুভাষ মুখোপাধ্যায়

সুভাষ মুখোপাধ্যায়

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,
চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।

চিমনির মুখে শোনো নাইরেন-শঙ্খ,
গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে-
তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য
জীবনকে চায় ভালোবাসতে।

প্রণয়ের যৌতুক দাও প্রতিবন্ধে
মারণের পণ নখদন্তে
বন্ধন ঘুচে যাবে জাগবার ছন্দে
উজ্জ্বল দিন দিক্-অস্তে।

মেজাজ

মেজাজ
সুভাষ মুখোপাধ্যায়

সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১৯১৯-২০০৩)

থলির ভেতর হাত ঢেকে
শাশুড়ি বিড়বিড় ক’রে মালা জপছেন;
বউ
গটগট ক’রে হেঁটে গেল।
আওয়াজটা বেয়াড়া; রোজকার আটপৌরে নয়।
যেন বাড়িতে ফেরিঅলা ডেকে
শখ ক’রে নতুন কেনা হয়েছে।

সুতরাং
মালাটা থেমে গেল; এবং
চোখ দুটো বিষ হয়ে
ঘাড়টাকে হেলিয়ে দিয়ে যেদিকে বউ যাচ্ছিলো
সেইদিকে ঢ’লে পড়লো।

শাড়ি - সুবোধ সরকার

শাড়ি
সুবোধ সরকার

সুবোধ সরকার (১৯৫৮- )

বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা
অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা
এতো শাড়ি একসঙ্গে সে জীবনে দেখেনি।

আলমারির প্রথম থাকে সে রাখল সব নীল শাড়িদের
হালকা নীল একটাকে জড়িয়ে ধরে বলল, তুই আমার আকাশ
দ্বিতীয় থাকে রাখল সব গোলাপীদের
একটা গোলাপীকে জড়িয়ে সে বলল, তোর নাম অভিমান
তৃতীয় থাকে তিনটি ময়ূর, যেন তিনদিক থেকে ছুটে আসা সুখ
তেজপাতা রং যে শাড়িটার, তার নাম দিল বিষাদ।
সারা বছর সে শুধু শাড়ি উপহার পেল
এত শাড়ি সে কী করে এক জীবনে পরবে?

ছাড়পত্র

ছাড়পত্র
সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত ভট্টাচার্য

যে শিশু ভুমিষ্ঠ হলো আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।

খর্বদেহ নিঃসহায় তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্ব্যোধ্য প্রতিজ্ঞায়।

সে ভাষা বুঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।

উদ্যোগ

উদ্যোগ
সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭)

বন্ধু, তোমার ছাড়ো-উদ্বেগ, সুতীক্ষè করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।
মূঢ় শত্রুকে হানো স্রোত রুখে, তন্দ্রাকে করো ছিন্ন,
একাগ্র দেশে শত্রুরা এসে হয়ে যাক নিশ্চিহ্ন।
ঘরে তোলো ধান, বিপ্লবী প্রাণ প্রস্তুত রাখো কাস্তে,
গাও সারিগান, হাতিয়ারে শান দাও আজ উদয়াস্তে।
আজ দৃঢ় দাঁতে পুঞ্জিত হাতে প্রতিরোধ করো শক্ত,
প্রতি ঘাসে ঘাসে বিদ্যুৎ আসে জাগে সাড়া অব্যক্ত।
আজকে মজুর হাতুড়ির সুর ক্রমশই করে দৃপ্ত,
আসে সংহতি; শত্রুর প্রতি ঘৃণা হয় নিক্ষিপ্ত।
ভীরু অন্যায় প্রাণ-বন্যায় জেনো আজ উচ্ছেদ্য,
বিপন্ন দেশে তাই নিঃশেষে ঢালো প্রাণ দুর্ভেদ্য!
সব প্রস্তুত যুদ্ধের দূত হানা দেয় পূব দরজায়,
ফেনী ও আসামে, চট্টগ্রামে ক্ষিপ্ত জনতা গর্জায়।
বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ম করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।

ঐতিহাসিক

ঐতিহাসিক
সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭)

আজ এসেছি তোমাদের ঘরে ঘরে-
পৃথিবীর আদালতের পরোয়ানা নিয়ে
তোমরা কি দেবে আমার প্রশ্নের কৈফিয়ৎ:
কেন মৃত্যুকীর্ণ শবে ভরলো পঞ্চাশ সাল?
আজ বাহান্ন সালের সূচনায় কি তার উত্তর দেবে?
জানি! স্তব্ধ হয়ে গেছে তোমাদের অগ্রগতির স্রোত,
তাই দীর্ঘশ্বাসের ধোঁয়ায় কালো করছ ভবিষ্যৎ
আর অনুশোচনার আগুনে ছাই হচ্ছে উৎসাহের কয়লা।
কিন্তু ভেবে দেখেছ কি?
দেরি হয়ে গেছে অনেক, অনেক দেরি!
লাইনে দাঁড়ানো অভ্যেস করনি কোনোদিন,
একটি মাত্র লক্ষ্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
মারামারি করেছ পরস্পর,
তোমাদের ঐক্যহীন বিশৃঙ্খলা দেখে
বন্ধ হয়ে গেছে মুক্তির দোকানের ঝাঁপ।
কেবল বঞ্চিত বিহ্বল বিমূঢ় জিজ্ঞাসাভরা চোখে
প্রত্যেকে চেয়েছ প্রত্যেকের দিকে;
-কেন এমন হল?

আমি সেই মেয়ে

আমি সেই মেয়ে

শুভ দাশগুপ্ত

আমি সেই মেয়ে।
বাসে ট্রেনে ট্রামে রাস্তায় আপনি যাকে রোজ দেখেন
যার শাড়ি, কপালের টিপ, কানের দুল আর পায়ের গোড়ালি
আপনি রোজ দেখেন।
আর, আরও অনেক কিছু দেখতে পাবার স্বপ্ন দেখেন।
স্বপ্নে যাকে ইচ্ছে মতন দেখেন।
আমি সেই মেয়ে।
বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে দিনের আলোয় যার ছায়া মাড়ানো
আপনার ধর্মে নিষিদ্ধ, আর রাতের গভীরে যাকে বস্তি থেকে
তুলে আনতে পাইক বরকন্দাজ পাঠান আপনি
আর সুসজ্জিত বিছানায় যার জন্য অপেক্ষায় অধীর হয়
আপনার রাজকীয় লাম্পট্য
আমি সেই মেয়ে।
আমি সেই মেয়ে- আসামের চা বাগানে ঝুপড়ি কামিন বস্তি থেকে
যাকে আপনি নিয়ে যেতে চান সাহেবি বাংলোয় মধ্যরাতে
ফায়ার প্লেসের ঝলসে ওঠা আলোয় মদির চোখে দেখতে চান
যার অনাবৃত শরীর
আমি সেই মেয়ে।

তদন্ত

তদন্ত
মাহমুদ দারবিস

মাহমুদ দারবিস

হ্যাঁ, লেখো
আমি একজন আরব
আমার কার্ড নম্বর পঞ্চাশ হাজার
আমার আটটি সন্তান
নবমটি পরবর্তি গ্রীষ্মে জন্মাবে,
তুমি কি রাগ করলে?

লেখো
আমি এক আরব
সাথী শ্রমিকের সাথে আমি পাথর ভাঙি
অমানুষিক পরিশ্রমে আমি পাথুরে পাহাড় ভেঙ্গে
নুড়ি করি-
এক টুকরো রুটির জন্যে
আমার আট সন্তানের একখানি বইয়ের জন্যে
কিন্তু আমি দয়া-দক্ষিণা চাইনা
আর তোমার কর্তৃত্বের কাছে মাথা নোয়াইনা
তুমি কি রাগ করলে?

বন্দীর বন্দনা

বন্দীর বন্দনা
বুদ্ধদেব বসু

বুদ্ধদেব বসু

প্রবৃত্তির অবিচ্ছেদ্য কারাগারে চিরন্তন বন্দী করি’ রচেছো আমায়-
নির্মম নির্মাতা মম! এ কেবল অকারণ আনন্দ তোমার!
মনে করি, মুক্ত হবো; মনে ভাবি, রহিতে দিবো না
মোর তরে এ-নিখিলে বন্ধনের চিহ্নমাত্র আর।
রুক্ষ দস্যুবেশে তাই হাস্যমুখে ভেসে যাই উচ্ছ্বসিত স্বেচ্ছাচার-স্রোতে,
উপেক্ষিয়া চ’লে যাই সংসার-সমাজ-গড়া লক্ষ-লক্ষ ক্ষুদ্র কন্টকের
নিষ্ঠুর আঘাত; দাসত্বের স্নেহের সন্তান
সংস্কারের বুকে হানি তীব্র তীক্ষè রূঢ় পরিহাস,
অবজ্ঞার কঠোর ভর্ৎসনা।
মনে ভাবি, মুক্তি বুঝি কাছে এল-
বিশ্বের আকাশে বহে লাবণ্যের মৃত্যুহীন স্রোত।

কর্তৃত্ব গ্রহণ কর, নারী

কর্তৃত্ব গ্রহণ কর, নারী
ফরহাদ মজহার

ফরহাদ মজহার

আমি তোমার সামনে আবার নতজানু হয়েছি, নারী
না, প্রেমে নয়, আশ্লেষে নয়,
ক্ষমা চেয়ে
তোমার দয়া দিয়ে আমার হৃদয় ধুয়ে দেবার প্রার্থনায়
আমার ভেতরে যে পুরুষ তাকে আমি চাবুক মেরে শাসন করেছি
তাকে হাঁটু মুড়ে বসতে বলেছি তোমার সামনে
আমি ক্ষমা চাই, ক্ষমা করে দাও
শুধু আমাকে নয়
সমস্ত পুরুষকে তুমি ক্ষমা কর
আমি আজ সমস্ত পুরুষের হয়ে তোমার ক্ষমাপ্রার্থী

পুরুষ তোমার সামনে আবার
নতজানু হয়েছে নারী,
তাকে ক্ষমা করে দাও।

সোমবার, ৯ জুন, ২০১৪

ডিসেম্বর ১৯৮১ | নির্মলেন্দু গুণ

ডিসেম্বর ১৯৮১
নির্মলেন্দু গুণ

এই কবিতাটির ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
হোক না সে ছন্দ-নক্সা-পাড়হীন বিধবার পরিধেয়
সাদা থান শাড়ি। না থাক এর অন্ত্যমিলের চাতুর্য,
কিম্বা অনুপ্রাসের সাঙ্গীতিক দোলা। না থাক এর বুকে
কোনো স্পর্শকাতর বিস্ফোরক বা বিষাক্ত স্প্লিন্টার বা সেই
আশ্চর্য ম্যাজিক যা কবিতার কাছে কাম্য ছিলো একদিন।
এই কবিতার মধ্যে নাগরিক জীবনের যন্ত্রণার কথা নেই,
নেই পরকীয়া প্রেমের নিষিদ্ধ আনন্দ, দ্বন্দ্ব, খাঁচার ভিতরের
অচিন পাখির আধ্যাত্মিকতা। নেই মরমী বাউল বা কোনো
আত্মমগ্ন কবির মনোবৈকল্যের বিশ্লেষণ। এখানে রোমাঞ্চ নেই
রহস্যোপন্যাসের অলৌকিক ঈশ্বরের প্রশস্তিগাথা বা সদ্যমৃত
কোন প্রিয় বন্ধুর নির্জন কবরে সাজানোর যোগ্য এপিটাফ
এটি নয়। কোনো প্রতীকী ব্যঞ্জনা নেই এখানে শব্দের,
নেই বাক্যের অন্তরালে সূক্ষ্ম কোনো লুক্কায়িত বোধ।

জেলখানার চিঠি

জেলখানার চিঠি
নাজিম হিকমত

নাজিম হিকমত

প্রিয়তমা আমার,
তোমার শেষ চিঠিতে
তুমি লিখেছো:
মাথা আমার ব্যথায় টনটন করছে,
দিশেহারা আমার হৃদয়।
তুমি লিখেছো:
যদি ওরা তোমাকে ফাঁসি দেয়
তোমাকে যদি হারাই,
             আমি বাঁচবো না।

তুমি বেঁচে থাকবে প্রিয়তমা বধূ আমার
আমার স্মৃতি কালো ধোঁয়ার মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে
তুমি বেঁচে থাকবে, আমার হৃদয়ের রক্তকেশী ভগিনী,
বিংশ শতাব্দীতে,
             মানুষের শোকের আয়ু
                         বড়জোর এক বছর।

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না | নবারুণ ভট্টাচার্য


এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না

__নবারুন ভট্টাচার্য

"Our freedom and its daily sustenance
are the colour of blood and swollen with sacrifice.
Our Sacrifice is conscious one;
it is in payment for the freedom that we are building"   ---Che

যে পিতা সন্তানের লাশ সনাক্ত করতে ভয় পায়
আমি তাকে ঘৃণা করি-
যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে
আমি তাকে ঘৃণা করি-
যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরাণী
প্রকাশ্য পথে এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না
আমি তাকে ঘৃণা করি-
আটজন মৃতদেহ
চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে
আমি অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যাচ্ছি
আট জোড়া খোলা চোখ আমাকে ঘুমের মধ্যে দেখে
আমি চীৎকার করে উঠি
আমাকে তারা ডাকছে অবেলায় উদ্যানে সকল সময়
আমি উন্মাদ হয়ে যাব
আত্মহত্যা করব
যা ইচ্ছা চায় তাই করব।

কাস্তে - দিনেশ দাশ


কাস্তে

দিনেশ দাশ

বেয়নেট হ’ক যত ধারালো
কাস্তেটা ধার দিও বন্ধু,
শেল আর বোম হ’ক ভারালো
কাস্তেটা শান দিও বন্ধু!

বাঁকানো চাঁদের সাদা ফালিটি
তুমি বুঝি খুব ভালবাসতে?
চাঁদের শতক আজ নহে তো,
এ-যুগের চাঁদ হ’ল কাস্তে!

লোহা আর ইস্পাতে দুনিয়া
যারা কাল করেছিল পূর্ণ
কামানে কামানে ঠোকাঠুকিতে
নিজেরাই চূর্ণ-বিচূর্ণ।

ভারত এক খোঁজ - জয়দেব বসু


ভারত এক খোঁজ

জয়দেব বসু

বিশেষ কারণে এত বছর পর আমি অযোধ্যা এলাম,
মাননীয় বিচারক,
এলাম আমার মায়ের জন্মভূমি খুঁজতে।
না, আমার কী ধর্ম আমি জানিনা,
জানিনা আমার বাবা কে,
আমার মা-ও জানত না এসব।
আমার মা মুন্নাবাঈ জন্মেছিল এখানেই এক ঝোপড়ায়,
কোন্ পুরুষের ঔরসে তার জন্ম তা ঠাহর করে
বলতে পারেনি আমার দাদীও, সেক্ষেত্রে জাতপাতের কথা তো ওঠেই না,
মা শুধু জানত কে তার মা,
মাননীয় বিচারক,
একে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলা যায় কিনা ভেবে দেখবেন,
যদিও পরিবার শব্দটার অর্থই আমার কাছে পরিষ্কার না।
বরং শুনুন, বালক বয়সে বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ে বসার আগে
কী আমি দেখেছিলাম?

ক্লিক করলেই ইনকাম