জুয়েল আদীব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জুয়েল আদীব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

আমরা সবাই যাযাবর | জুয়েল আদীব


'মুছেই না হয় গেলাম।
কার তাতে কীইবা আসে যায়।'
কথাটা যত অনায়াসে বলা যায়,
অভিব্যক্তি ততটা সহজসাধ্য নয়।
অথবা কারো অভিমান জমা বিস্তর,
অজানা-অচেনা আক্ষেপে বিক্ষুব্ধ মন,
কেউ হয়তো আনমনে বলেই ফেললো-
'না ফিরলে কী আসে যায়!'
কিন্তু বুকের চিনচিন ব্যথা তীব্র হয়,
ধুকপুকানি হাহাকার উথলে ওঠে,
অন্তরে অন্তর্নিহিত কান্না বাষ্পীভূত হয়।
একটি অস্পৃশ্য সাক্ষাতের জন্য নিরবে
অপেক্ষা করতে হয় কাউকে কুড়িবছর!
আবার কারো হয়তো একজনম গেলেও
প্রিয় মানুষের দেখা পায় না সচরাচর,
অপেক্ষার প্রহর গিয়ে প্রতীক্ষায় ঠেকে
তবু আখিরাতে দেখা হবে আশায় থাকে।
অনন্ত মিনতি চেনা-অচেনা পথিকের,
নিঃশব্দ আকুতি চিরচেনা মাতৃভূমির-
কিছু স্মৃতিচিহ্ন রেখো শৈশবের দেশে
ফিরে আসিও দুরন্ত কিশোরীর বেশে।
স্বাগত জানাতে অধীর প্রতীক্ষায় থাকবে-
আজন্ম জলাভূমি, বিবর্ণ মাঠের ধুলোবালি
নদীর ঢেউ, বালুচর আর সাম্পান পতাকা।
হোক তা ফেরারি, তবু ফিরে এসো বারবার,
আসতেই হবে- আমরা যে সবাই যাযাবর।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

বীর হবে নাকি ভীরু? | জুয়েল আদীব

_


_____

১.
বীর হলে বুক চিতিয়ে দাঁড়াও,
হায়েনার বুলেট ধেয়ে আসবে
আঁকবে বুকে বীরত্বের মোহর।
আর যদি ভীরু হও, দৌড়াও!
ধাবমান অগ্নি পিঠে লাগবে
সুদীর্ঘ হবে পরাজয়ের প্রহর।
২.
এখন যদি না জাগো আর
কখন তুমি জাগবে?
এখনো কি ভাবছোই বসে
কোন পক্ষে থাকবে!
তবে মনে রেখো নিশ্চিত
পক্ষ কেবলই দুটি,
ন্যায়ের সপক্ষে শিরদাঁড়া
নাকি অন্যায় টুটি?
৩.
মুক্তির শ্লোগানে মিলিত অজস্রকণ্ঠ
প্রতিবন্ধক ঠেলে এগোয় ছাত্রজনতা
হয় স্বদেশ মুক্তি, নয়তো শহীদি মৃত্যু
দৃঢ়চেতা রক্তশপথে ভাঙছে নিরবতা।
তাইতো শহীদি মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে-
সন্তানহারা মায়ের বুকফাটা ক্রন্দন
নির্বাক পিতার চোখে বিস্ফোরণ
ভাইবোনের আহাজারি নিদারুণ
বন্ধুরা খুঁজেফেরে অনিশ্চিত সান্ত্বনা
উৎসুক জনতার অশ্রুসজল চাহনি,
এইতো আমাদের মৃত্যুপুরী মাতৃভূমি।
বীর হলে ঘুরে দাঁড়াও
দুঃসাহসী বুক টানটান,
শহীদ আবু সাঈদ হও
অমর প্রাণ চির অম্লান।
[জুলাই বিপ্লবের সময়ে লেখা প্রতিবাদী শব্দমালা]

শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫

সংগ্রামী বীর | জুয়েল আদীব



যদি ফিরে না আসে সংগ্রামী বীর,
স্বদেশ বক্ষ হবে বেদনায় চৌচির।
আর নয় মা-বোনের ক্রন্দন রোল,
এবার উঠবে প্রতিশোধ হিন্দোল।
যদি নিথর হয় প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর
সর্বত্র উঠবে প্রতিরোধের ঘুর্ণিঝড়
আমরা হবো বিপ্লবী ওসমান হাদি
আধিপত্যের বিরুদ্ধে বজ্র প্রতিবাদী।
যদি আর কখনো দুচোখ না মেলে
জনতার হৃদয়ে থাকবে তবু ছেলে।
২০২৫

সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৬

আগস্ট ‪‎শোকার্ত উচ্চারণ‬

জুয়েল আদীব


বাংলাদেশ প্রিয় কবিতার জমিন
বঙ্গবন্ধু এ কবিতার কবি মহান
স্বাধীনতার মহাকাব্য উপাখ্যান
লিখেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

আগস্ট জুড়ে শোকার্ত উচ্চারণ
হৃদয় অতলান্তে ব্যাথার গুঞ্জরণ
কত কাব্য-গানে পিতাকে স্মরণ
এ যেন বিনম্র শ্রদ্ধার উদ্ভাসন।

শোকে শোকাবহ এ আগস্ট মাস
চোখে ভাসে জাতির পিতার লাশ
মহানায়ক তুমি অমর, অবিনাশ
বাঙালীর মনপুরায় তব বসবাস।

মম শ্রদ্ধা ও প্রণতি তোমার সকাশ
আমায় দিও ভালোবাসার অবকাশ।

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৪

মাতৃভাষা ও ভালোবাসা

জুয়েল আদীব
মাতৃভাষা ও ভালোবাসা
জুয়েল আদীব

‘আমি তোমায় ভালোবাসি’ শুধু তোমাকে
চেতনে-অবচেতনে, উত্থানে-পতনে
শৈশবে-কৈশরে, যৌবনে, ষোলকলা জীবনে
জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে প্রতিধ্বনিত
প্রতিবিম্বিত আর প্রতি সঞ্চালিত
ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।

মাতৃভাষার প্রতীক অ-আ-ক-খ বর্ণমালা
ব্যঞ্জনের সাথে স্বরবর্ণের ওতপ্রোত ব্যঞ্জনা
তবেই না অতি পরিচিত সর্বত্র প্রচলিত
‘ভালোবাসা’ বর্ণজটের শৈল্পিক উদ্ভবে।

ধনীর অট্টালিকায়, গরীবের কুঁড়েঘরে
নদীর জলজ আস্তরে, বাতাসের
উড়ন্ত শরীরে, ‘ভালোবাসা’ উৎকীর্ণ
সুনীল গগনের কোমল মসৃণ চাদরে।

আষাঢ়ের গান

আষাঢ়ের গান
জুয়েল আদীব

আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন
বাজুক মনে বৃষ্টি বীণ।।

কদম ফুল পেখম মেলে
বনফুল গন্ধ ঢেলে
বাগান বিলাস রঙ ছড়িয়ে
দেবে তোমার মন ভরিয়ে।
তাই দেখে এই বর্ষা দিন
মনের সুখে হয় রঙিন।।

বৃষ্টির আশায় বসে থেকে
মেঘ বালিকার ছবি এঁকে
অচিন পথে হেঁটে হেঁটে
দিন যে আমার যায়রে কেটে।
জলভরা ঐ মেঘের ঋণ
মনের আলোয় হোক মলিন।।

একটি কথা বলাই হলো না

একটি কথা বলাই হলো না
জুয়েল আদীব

একটি কথা বলাই হলো না
সে কথাটি বলবো বলে চোখে-মুখে
কথার পিঠে কত কথা বলি তারে
শুধু একটি কথা হয় না কভু বলা।

হাজার কথার ভীড়ের মাঝে
সে কথাটি হারিয়ে গেলো মনে মনে
কথায় কথায় কত সময় ফুরিয়ে গেলো
বলার কথা বলাই হলো না।

ভূমিকার ভাব শেষ না হতে
প্রসঙ্গটা পাল্টে গেলো অজান্তে
শহর-নগর, অলি-গলি পেরিয়ে দেখি
আসল কথাই রয়ে গেলো কথার বাইরে।

কতো কথা পাখি হয়ে ওড়ে আকাশে
শুধু একটি কথা ঝরা পালক
সময় শেষে রইলো পড়ে হৃদয় জমিনে।

মন বাড়িয়ে দিলেম

মন বাড়িয়ে দিলেম
জুয়েল আদীব

বুকের কথা মুখেই রেখে
মন বাড়িয়ে দিলেম, পরী
হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারি
তবু দৃষ্টি দিয়ে আঁকড়ে ধরি।

অনুভবের কোন্ কার্ণিশে
জাগায় তোমার শিহরণ
তুমি কি বুঝতে পারো
আমার আঁখির বিচরণ।

চাইলে তুমি জিগরখানি
তুলে দেবো তোমার হাতে
ডুব সাঁতারে মুগ্ধ হবো
মৃণাল দেহের জলপ্রপাতে।

সুখ শ্রাবণের বৃষ্টি হয়ে
ভিজিয়ে দাও হৃদয়পুর
বিজলী মেয়ে মিষ্টি হেসে
যেওনা চলে অচিন্ দূর।

১১.০৭.০৬

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০০৫

সেই তোমার জন্য

সেই তোমার জন্য
জুয়েল আদীব


সেই কবে কথা হয়েছিলো
সেই কবে দেখা হয়েছিলো
কবে রেখেছ অনিমেষ দিঠি
সেই কবে লিখেছ শেষ চিঠি।

সেই মুখোমুখি বসার স্মৃতি
সেই পায়ে পায়ে চলার স্মৃতি
       অপেক্ষার প্রহর
       রৌদ্রজ্জ্বল নগর
সেই আশা-নিরাশার মৌন কথা
সেই যে স্বপ্ন দেখার যুক্ত ব্যথা
       তুমি অতঃপর
       দাওনি উত্তর
বেশ কেটে গেল দিন অনেক
হয়ে গেলাম আমি অচেনা এক
ভুলো মন ভুলে গেলো সব আজ
ভুললোনা শুধু সেই চোখের কারুকাজ
       নদী তুমি পাথর
       কার হৃদয় আকর ?

নভেম্বর,২০০৫

ক্লিক করলেই ইনকাম